রোজা নামক উৎসবের গোঁজামিল

রমজান একটি অমুসলিম পৌত্তলিক প্যাগানদের আরব উৎসব ছিল।

প্রাক ইসলামী রমজান ও ইসলামী রমজান মধ্যে পার্থক্য হল, প্রাক ইসলাম আরবে রমজান একটি পৌত্তলিক গোত্রের রেওয়াজ ছিল এবং ইসলামী রমজান সারাবিশ্বের সকল মুসলিমদের দ্বারা চর্চা করতে হয়। রমজানের সময় পৌত্তলিকরা খাদ্য, পানি ও যৌন সংগম থেকে বিরত থাকত, এবং মুসলিমরা ঠিক সেই একই কাজ করে। এটা স্পস্ট যে, মুসলিমরা প্যাগানদের এই উৎসবকে কপি করেছে এবং তার প্রমান মেলে সহিহ বুখারীতে।

সহিহ বুখারী 5: 58: 172 – থেকে আয়েশা দ্বারা বর্ণিত,” আশুরার দিনে প্রাক ইসলামিক যুগে অজ্ঞ কুরাইশ গোত্র উপবাস করত. নবী এই দিনে রোজা রাখতেন, অতঃপর যখন তিনি মদীনায় হিজরত করলেন, তিনি উপবাস করলেন এবং মুসলমানদের উপর রমজান ফরয করা হয়েছিল, তখন আশুরার দিনে রোজা রাখা বা না রাখা ইচ্ছার উপর নির্ভর করত”। আশুরার রোযা (মহররম এর দশম) একটি কুরাইশ পৌত্তলিক অনুশীলন থেকে অনুকরণকৃত। রমজানের রোযা পরবর্তীতে সেবিয়ান ঐতিহ্য থেকে এসেছিল। সেবিয়ানদের কুরআন [সূরা আল-বাকারাহ 2:62], [আল-হাজ্ব 22:17], [আল মায়েদাহ্; 5:69] এর মধ্যে কয়েক আয়াতে খ্রিস্টান ও ইহুদি সহ উল্লেখ করা হয়। সেবিয়ানরা, একটি অমুসলিম ইরাকি উপজাতি যারা একেশ্বরবাদের প্রতি বিশ্বাস করত, বছরের ৩০ দিন রোজা রাখত এবং প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত প্রার্থনা করত।

শুধু রমজানের রোযাই নয়, অন্যান্য পৌত্তলিক ধর্মানুষ্ঠান যা ইসলামে ছিল না, পরবর্তীতে ইসলামে চালু করা হয়। মক্কায় কাবা মূর্তিপূজার একটি কেন্দ্র ছিল, যার ভিতরে ৩৬০টি মূর্তি কাবা রাখা হয়েছিল। সহিহ বুখারি থেকে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (3:43:658) থেকে বর্ণিত, মুহম্মদ মক্কা প্রবেশ করলেন এবং (যে সময়ে) কাবায় ৩৬০ টি মূর্তি ছিল. তিনি একটি লাঠি দিয়ে যা তাঁর হাতে ছিল তা দিয়ে প্রতিমায় আঘাত করা শুরু করেন এবং বলতে থাকেন, ” সত্য (ইসলাম) এসেছে এবং মিথ্যা (অবিশ্বাস) বিলুপ্ত হয়েছে”। তখন কালো পাথর বা আল-হাজর আল-আসওয়াদ কাবার কেন্দ্রীয় বস্তু হয়ে ওঠে, এটা অনেক পাথরগুলির একটি যা প্রাক ইসলামী মুশরিকদের দ্বারা স্থাপন করা হয়েছিল, এই কালো পাথরে প্রাক ইসলামী যুগে পৌত্তলিক পূজার সময় মানুষ চুমো দিত। মুহাম্মদ সম্পূর্ণরূপে মূর্তিপূজা বন্ধ করেননি, কিন্তু তিনি হাজরে আসওয়াদকে রাখতে দেন যাতে লোকেরা পাথরে চুমো খেতে পারে।এটাই সেই প্রাক ইসলামী পৌত্তলিক পাথর যে পাথরে মুসলমানরা হজ্ব ও ওমরাহের সময় চুমু খায়। মুসলিম ঐতিহাসিকগণ এও বিশ্বাস করেন যে এই কালো পাথর একটি পৌত্তলিক দেবতা ‘লাত’, যে তৎকালীন দেবতা আল্লাহ্‌র (পৌত্তলিক চাঁদ-দেবতার) তিন মেয়ের এক মেয়ে ছিল।

একুশ শতকের মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে ব্ল্যাক স্টোন আদম এবং ইভ এর আমলে স্বর্গ থেকে পতন হয়েছিল, তারা এও বিশ্বাস করেন এই পাথর মূলত সাদা ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে মানুষের পাপ শুষে কালোতে পরিনত হয়েছে।

প্রাক ইসলামী মুশরিকদের প্রতিদিন পাঁচবার মক্কামুখী হয়ে প্রার্থনা করত। পার্সি জোরাওস্ট্রিয়ান জাতিও পাঁচবার প্রার্থনা করত সূর্য বা আগুন মন্দিরের দিকে মুখ করে। নামাজের আগে, অগ্নি উপাসকরা নিজেদের পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ৫ বার প্রার্থনা করত সুতরাং আজকাল যে নামাজ পড়া হয় তা ইসলামের উদ্ভাবন নয়, শুধু অগ্নি উপাসকদের প্রার্থনার একটি মডার্ন রুপ মাত্র। সহীহ বুখারী হাদিস (বই ৮,হাদিস নং ৩৪৫) পড়লে জানা যায়, যখন মুহাম্মদ স্বর্গে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করতে যায়, আল্লাহ দিনে ৫০ বার নামাজের দাবি জানান, কিন্তু নবী মুসার সাহায্যে মুহাম্মদ আল্লাহর সঙ্গে দরকষাকষি করে শেষে তিনি সফল হয়েছিলেন ৫০ ওয়াক্ত নামাজকে ৫ ওয়াক্তে নামিয়ে আনতে। কুরআন (4:28) বলে, ‘আল্লাহ তোমাদের বোঝা হালকা করতে চায়, কারণ মানুষকে দুর্বলভাবে তৈরি করা হয়েছে।

কুরানে বলা হয়েছে,”আর তোমরা পানাহার করো, যতক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের সাদা রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৭)। কিন্তু পৃথিবীর অনেক অঞ্চলে কখনো সূর্য ডোবে না, সেক্ষেত্রে কি করা হবে তার বর্ণনা কুরআন হাদিসে কোথাও বলা নেই। ইসলাম জ্ঞানীরা কেউ মক্কার টাইম ফলো করতে বলেন অথবা পার্শ্ববর্তী দেশের টাইম ফলো করতে বলেন। তাহলে প্রশ্ন হল, আল্লাহ অথবা মুহম্মদ কি জানতেন না, এমন কোন দেশের অঞ্চল আছে যেখানে বছরের ৬ মাস সূর্যাস্ত হয় না?

কোন দেশে কেউ ৯ ঘন্টা রোজা রাখছে আবার কেউ ২১ ঘন্টা। এই বৈষম্য কেন? যে ২১ ঘন্টা রোজা রাখছে তার পুন্য কি ৯ ঘণ্টা রোজাদারের সমপরিমান?

অনেক অ-ইসলামিক পৌত্তলিক ধর্মানুষ্ঠান এখন ইসলামী ধর্মানুষ্ঠান হিসাবে পরিচিত হয়। পৌত্তলিকদের ক্রিসেন্ট মুন, চন্দ্র দেবতার সিম্বল, তাওয়াফের প্রতীক, ইহরামের প্রতীক ইসলাম দ্বারা কপি অথবা চুরি করা হয়েছে। মুসলমানরা এখন আকাশে একটি চাঁদের উপর নির্ভর করে দেখে তাদের রোজা শুরু করে যেটা পৌত্তলিকদের অনুরুপ। রমজান মুসলমানদের জন্য একটি এক ধরনের মাসব্যাপী খাদ্য উৎসব, যেখানে মুসলমানদের এই মাসে সংযম করবে অথবা কম খাবে বলে আশা করা হয়. কিন্তু বাস্তবে, মুসলমানরা অন্য কোন মাসের তুলনায় রমজান মাসেই বেশি খায়।

রমজান মাসে স্ত্রীদের আদর করা নিয়ে অনেক হাদিস আছে, যার মধ্যে একটি ইন্টারেস্টিং হাদিস হল, রোজার সময়ে বয়স্ক স্বামীরা তার কম বয়স্কা স্ত্রীকে আদর করতে পারবে যেখানে যুবকদের স্ত্রীকে আদর করতে মানা করা হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখেনা, মুহম্মদ সেই সময়ে বৃদ্ধ ছিলেন।

বুখারী হাদিস, আয়েশা দ্বারা বর্ণিত, খন্ড ৩, ১৪৯ , ”মুহাম্মদ রোজাকালীন সময়ে স্ত্রীদের চুমু দিতেন এবং আলিঙ্গন করতেন এবং তোমাদের মধ্যে যে কারো চেয়ে তার ইচ্ছাশক্তি নিয়ন্ত্রিত ছিল”।

বুখারী হাদিস, খন্ড ৩, ১৫১তে বর্ণিত, তিনি জয়নবের সাথে ( উম্মে সালমার কন্যা) একই পাত্রে গোসল করতেন, এবং তাকে চুমু খেতেন রোজা থাকা সত্ত্বেও।

হাদিস গ্রন্থ ১৩, হাদিস নাম্বার ২৩৮১ তে আবু হুরায়রা দ্বারা বর্ণিত, এক ব্যাক্তি প্রশ্ন করে রোজা থাকা অবস্থায় স্ত্রীকে আলিঙ্গন করা যাবে কিনা। মুহম্মদ তাকে অনুমতি দেন। কিন্তু যখন আরেকজন ব্যাক্তি একই প্রশ্ন করেন, তাকে মানা করেন। যাকে অনুমতি দেন, সেই লোক বৃদ্ধ ছিলেন, এবং যাকে মানা করলেন সে ছিল তরুন।

হাদিস গ্রন্থ ১৩, হাদিস নাম্বার ২৩৮০ তে আয়েশা দ্বারা বর্ণিত, মুহম্মদ তাকে চুমু দিতেন এবং তার জিহ্বা চুষতেন, রোজা থাকা অবস্থায়।

না খেয়ে থাকলে অথবা যৌনক্রিয়া না করলেই যদি গরিবের কষ্ট বোঝা যেত, তাহলে পৃথিবীতে এখনো এত গরিব, ক্ষুধার্ত মানুষ কেন না খেতে পেয়ে মারা যাচ্ছে সেই প্রশ্ন কিন্তু রয়েই যাচ্ছে। আর যদি ইসলামকে দোষ না দিয়ে মুসলিমদের ঈমানের দোষ দিয়েই থাকেন, তবে রমজান নামক ভোজের উৎসব পালনের সার্থকতা কোথায়?

Advertisements

নারীবাদ বনাম মানবতাবাদ

নারীবাদ নিয়ে আমার মতামত খুব স্পষ্ট, নারীদের অধিকার নারীদেরই অর্জন করতে হবে, খালি পুরুষদের দোষারোপ করে নারী অধিকার অর্জন করা কল্পনাপ্রসুত ব্যাপার। যেখানে নারীবাদের মুল মন্ত্র হওয়া উচিৎ ছিল নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা, নারীদের জাগ্রত করে তোলা, তাকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা। সেখানে বর্তমানে নারীবাদ মানে হচ্ছে পুরুষদের প্রতি ঘৃণা, নারীকে পুরুষদের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করা, কয়েকজন পুরুষের অপকর্মের জন্য পুরো পুরুষজাতিকে দায়ী করা।
 
আমি কিছু কিছু নারীবাদীদের পুরুষদের প্রতি ঘৃণা দেখে রীতিমত আতংকিত। কেউ কেউ মনে করেন পৃথিবীর সব পুরুষরাই খারাপ এবং সবাই ধর্ষক। নারীদের ধর্ষণ করাই বোধহয় পুরুষদের একমাত্র কাজ। কয়েকজনকে এমন আন্দোলন করতে শুনেছি, নারীর গর্ভে পুরুষ ভ্রুন দেখামাত্রই তাকে হত্যা করা উচিৎ। পুরুষ মানেই খারাপ, পুরুষ মানেই ধর্ষক। তাদের মাথায় রাখা উচিৎ, তাদের বাবাও একজন পুরুষ, তাদের ভাইও একজন পুরুষ। কয়েকজন ধর্ষকের কারনে পুরো পুরুষজাতিকে ঘৃণা করার কোন যুক্তি খুজে পাইনা।
 
নারী অধিকার মানেই উলঙ্গ হয়ে রাস্তায় চলাফেরা করা না। হ্যা, আপনার পোশাক পড়ার স্বাধীনতা অবশ্যই আছে, তবে অবশ্যই তা দেশভিত্তিক নিয়ম কানুন, ধার্মিক অবস্থান এবং সমাজের সাথে মানানসই হতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি আপনি উলঙ্গ হতে হাঁটতে চান এবং যদি বলেন পুরুষদের না তাকাতে তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। ইউরোপেও যদি কোন মেয়ে দেখতে সুন্দরী হয়, তার দিকেও মানুষ তাকায়, তার সাথে ভাব জমাতে চায়। এটা পুরুষদের স্বাভাবিক আচরন ঠিক যেমনটি মেয়েরা কোন সুদর্শন ছেলে দেখলে তার দিকেও তাকায়। সুন্দরী মেয়ে দেখলে তার দিকে তাকানো আমাদের মজ্জার ভিতরে এবং এটা একটি জৈবিক কারন। আবার যদি মেয়েরা সাজুগুজু করে, কোন ছেলে যদি না তাকায়, ওই নারীরাই আবার বলে, ওই ছেলেটা হয়ত গে অথবা তার কোন সমস্যা আছে। ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আর কাকে বলে।
 
আদিম যুগ থেকেই পুরুষ এবং নারীদের কাজের বন্টন করা আছে। ছেলেরা শিকারে যাবে, নারীরা বাচ্চাদের দেখাশোনা করবে এবং রান্না করবে। এখন যুগ পালটে গিয়েছে, নারী পুরুষ সমানতালে কাজ করছে। তাই বলে বাচ্চাকে ডে কেয়ারে রেখে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও জব করে আপনি কি এমন আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন জানতে পারি? আপনার বাচ্চা যে মায়ের আদর, স্নেহ, শাসন, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, সেটা কি আপনার কাছে মুখ্য নাকি চাকরি?
 
পুরো প্রানীজগতে সবাই নারীদের অর্জন করতে চায়। অনেক পুরুষ প্রানী নারী প্রানীকে পাওয়ার জন্য যুদ্ধ করে, যেটা মানুষেরাও করে থাকে। অনেক প্রানী সুন্দর বাসা বানায়, গান করে, পালক তুলে নাচে শুধু মেয়েদের আকৃষ্ট করার জন্য, মানুষও তাই। মেয়েরা ডিমে তা দেয়, পুরুষরা খাবার সংগ্রহ করে আনে। ভাগ্যক্রমে প্রানীজগতে নারীবাদ নেই, নইলে পুরো প্রানীজগতে গন্ডগোল লেগে যেত।
 
ভাগ্য ভাল, মোরগের বিরুদ্ধে মুরগীকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে কেউ মামলা করেনা, নইলে ডিমের মত সুস্বাদু খাবার থেকে আমরা বঞ্চিত হতাম।
 
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীবাদ একটি হাস্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনেক খবরে দেখেছি, বিশিষ্ট নারীবাদীরা সভা সেমিনারে নারীদের অধিকারের কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলে বাসায় এসে কাজের মেয়েকে খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেন, মারতে মারতে কাজের মেয়ের শরীর নীল করে ফেলেন, রিকশায় যাওয়ার সময় পায়ের কাছে বসান, উচ্ছিষ্ট খেতে দেন। আবার তারাই নারী অধিকারের বুলি কপচান।
 
অনেক নারীবাদী মনে করেন, নারীরা পুরুষদের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু নারীরা গর্ভধারণ করেন, তাই নারীরাই শ্রেষ্ঠ। পুরুষের বীর্য ছাড়া যে গর্ভধারণ করা সম্ভব না, সেটা তারা ভুলে যান।
 
বাংলাদেশে কয়জন মেয়ে রেস্টুরেন্টের বিল দেন?
কয়জন মেয়ে দেনমোহরের টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান?
কয়জন মেয়ে বেকার ছেলেকে বিয়ে করতে চান?
কয়জন মেয়ে ডিগ্রি অর্জন করার পরেও বড়লোক জামাই না খুঁজে নিজেই চাকরির খোঁজে নেমে যান?
কয়জন মেয়ে পরিবারের ছেলের আশায় না থেকে নিজেই সংসারের হাল ধরেন?
কয়জন মেয়ে স্বামীর অত্যাচারের কারনে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন?
 
 
যে দেশে নারীরাই পুরুষের পরজীবী হয়ে বাঁচতে চায়, সেখানে নারীবাদ একটা তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।
 
আমার কাছে নারীবাদের চেয়ে মানবতাবাদ বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে নারী পুরুষের কোন ভেদাভেদ নেই।
 
জগতের সকল নারী-পুরুষ সুখী হোক।

সনু নিগম, আজান এবং শব্দ দূষণ

বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক সনু নিগম সম্প্রতি আজানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এই গায়ক তার নিজস্ব টুইটারে লিখেছেন,”অনিচ্ছাসত্ত্বেও প্রতিদিন আজানের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়।” গত সোমবার (১৭ এপ্রিল) এমন মন্তব্য করায় সনু বিতর্কের মুখে পড়েন।

তার বক্তব্য, ‘এ প্রথা ধর্মের নামে জোর করে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমি মুসলিম নই, তবু রোজ আজানের শব্দে আমার ঘুম ভেঙে যায়। ধর্মের নামে এই জুলুম কবে বন্ধ হবে এ দেশে?’

সনুর বাড়িতে স্থানীয় মসজিদের মাইক থেকে ভেসে আসে আজানের শব্দ। এর প্রতিবাদেই গায়ক টুইটারে আরও লিখেছেন, ‘হযরত মুহাম্মদ (স.) যখন ইসলাম ধর্মের প্রবর্তন করেন, আশা করি সেই সময় বিদ্যুৎ ছিল না।’ অন্য একটি  টুইটে সনু লিখেছেন, ‘আমার মনে হয় না কোনো মন্দির বা গুরুদুয়ারা কেউই ইলেক্টিসিটি ব্যবহার করে মানুষের ঘুম ভাঙায়!’

17972098_617583211786360_2349328461602486332_o

এখন প্রশ্ন হল, তার দাবী কতটা যৌক্তিক?

ঢাকা শহরে হাজার হাজার মসজিদ। এক গলিতেই দেখা যায় ১০-১২ টা মসজিদ। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মত মসজিদ গড়ে ওঠে। মসজিদের নামে কারো জায়গা দখল করে নিলেও টু শব্দটি করতে পারেনা কেউ। একবার মসজিদ হয়ে গেলে সেটা ভাঙ্গার সাধ্য কারো নেই। তার উপর কোন ইলেক্ট্রিসিটি বিল,পানির বিল দিতে হয়না। এলাকার মানুষের দয়া দাক্ষিণ্যে গড়ে ওঠে মসজিদ। তাপর শুরু হয় মসজিদের চাঁদার নামে ভিক্ষাবৃত্তি। তারপর আসে একটা মাইক। শুরু হয় অত্যাচার। ডেইলি পাঁচবার করে কর্কশ কন্ঠে কেউ নামাজে যেতে না চাইলেও ডেকে ডেকে মসজিদে আনার একটা চেষ্টা। আজানের সময় হলে ১০-১২ টা মসজিদে একের পর এক শুরু হয় আজান। প্রায় ৫-১০ মিনিট চলতে থাকে এই অত্যাচার। রমজানের সময় হলে তো কথাই নেই। ভোররাত থেকে শুরু হয় সেহরি খাওয়ার আবেদন। তারপর সারাদিন জিকির, কোরান পাঠ চলতেই থাকে। কেন এই অত্যাচার?

এখন সবার হাতেই মোবাইল ফোন থাকে। যার নামাজ পড়ার ইচ্ছা আছে, সে এলার্ম দিয়ে রাখতেই পারে। ডেইলি পাঁচবার চিৎকার করে তাকে মসজিদে নিয়ে যাওয়ার কারন কি? তবুও যদি সবাই যেত। জুম্মার নামাজ ছাড়া প্রায় মসজিদই থাকে খালি। ১৪০০ বছর আগে মুহম্মদের আমলে কি মাইক ছিল? তখন মানুষ নামাজ পড়েনাই?

এখন আসি শব্দদূষণের কথায়। পরিবেশবাদীরাও একই কথা বলেন। ঢাকা শহরে আজানের সময় ১১০-১১৫ ডেসিবেলের শব্দ তৈরী হয় যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ঢাকার প্রায় শতভাগ মানুষই, সেই সাথে অন্যান্য শহরগুলোর নাগরিকেরাও শব্দদূষণের কারণে নানা রোগে ভুগছেন। রাজধানীর প্রায় ১২ ভাগ নগরবাসী মাথাব্যথা ও চোখে পানিপড়া, ১৮ ভাগ অবসাদ, ১৫ ভাগ অনিদ্রা, ২৮ ভাগ বদমেজাজ, ২৬ ভাগ কানে কম শোনা এবং তিন ভাগ লোক অন্যান্য রোগে ভুগছেন, সেটাও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকেরা বলছেন, ১৫ বছর পর এই মহানগরের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ভাগ লোক তাদের শ্রবণশক্তি হারাবে বা শ্রবণপ্রতিবন্ধী হবে। শিশুরা হয় সবচাইতে বেশি আক্রান্ত। প্রতিদিন সকালে অনিচ্ছাকৃত ভাবে তাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। যাদের হৃদরোগ আছে তাদের অবস্থা আরো ভয়ঙ্কর।

অনেকেই যুক্তি দেন হিন্দুরাও তো পুজার সময় ঢাক ঢোল পিটিয়ে শব্দ দূষণ করে। তখন কিছু বলা হয়না কেন? হিন্দুরা অন্তত ডেইলি পাঁচবার অত্যাচার করেনা। আপনি যখন কনসার্টে যান তখন কি উচ্চ শব্দের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন? তাদের পুজার সময়ে যেভাবে মাইক ব্যবহার করা হয় এটাও ঠিক না। যার যার ধর্ম পালন করবেন, ঘরের ভিতর। বাইরে নেমে জোর করে সবাইকে আপনার ধর্মের কথা জোর করে শোনানো ঠিক? এই জন্যেই আস্তে আস্তে সব দেশগুলিতে উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার করা বন্ধ করে দিচ্ছে। ভারতের মুম্বাইতে রাত ১০- সকাল ৬টা পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে যাতে মানুষের ঘুমের সমস্যা না হয়।

সবার মনের কথা মুখে বলার কারনে এখন সনু নিগম মুসলমানদের শত্রুতে পরিনত হয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন ওনার গান নাকি এখন মানুষ খায় না তাই এই স্টান্টবাজি। যারা এতদিন ওনার গান শুনত, অনেক মুসলমান ওনার গান শুনবে না বলে প্রতিজ্ঞা করেছে যদিও মুসলমানদের জন্য গান বাজনা হারাম।এখন সনু নিগমের গান শোনা হারাম কিন্তু অন্যদেরটা আরাম। আবার অনেক হিন্দু সুশীল হতে গিয়ে আজানের সুর নাকি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সুর বলে দাবী করছেন। ডেইলি পাঁচবারের জায়গায় কেন দশবার হয়না এই নিয়ে তাদের আক্ষেপ। এই হিন্দু সুশীলরা কেন যে এখনো ইসলাম ধর্ম গ্রহন করছেনা সেটাই মাথায় আসছেনা। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা আর কি।

যাই হোক, এতদিন ভাবছিলাম বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে? সনু নিগম কে ধন্যবাদ অপ্রিয় সত্য কথাটি বলার জন্য। আমরাও আজানের নামে এই শব্দ সন্ত্রাস থেকে মুক্তি চাই।

ইসলামী খেলাফত ও তার রক্তাক্ত ইতিহাসঃ নন মুসলিম ভার্সন

ইসলামী খেলাফত ও তার রক্তাক্ত ইতিহাসঃ নন মুসলিম ভার্সন
আজকে আমরা ইসলামের খিলাফতের ইতিহাস সম্পর্কে কিছু জানবো। মুসলিমদের দ্বারা বিভ্রান্ত কোন ইতিহাস নয়, সঠিক ইতিহাস যা আমাদের অনেকেরই অজানা রয়ে আছে। কিভাবে ইসলামের বিস্তার ঘটেছে এবং খিলাফতের নামে কিভাবে কোটি কোটি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং এখনো তার হত্যাযজ্ঞ চলছে তার বিবরন থাকবে এই লেখায়।
মুসলমানরা কখনই তাদের ইতিহাসকে কখনই এমনভাবে উপস্থাপন করবে না, তাদের ধর্মও যে একটি বর্বরতায় পরিপূর্ণ ধর্মও যাতে সেটা কেউ জেনে যায়। যদিও অনেক বিধর্মী হত্যাকে আল্লাহ্‌র ইচ্ছা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবং মূর্খ মুসলিমরা সেটা গাধার মত গিলে খেয়ে নিয়েছে।
কথায় আছে ,”যারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না, তারা আবারো একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করে”।
যখন ৬০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে মুহম্মদ ৬০০ পাখাওয়ালা জিব্রাইলের কাছ থেকে অহী পেয়ে (যদিও এইসব গালগপ্পো) নিজেকে শেষ নবী হিসেবে দাবী করে, সে প্রথমেই মক্কাতে ইসলাম প্রচার শুরু করে। নিজের বন্ধু বান্ধব, পাড়া প্রতিবেশীদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া শুরু করে। এরকম ভাবে সে ইসলাম প্রচারের চেষ্টা করে ১২ বছর। ১২ বছর চেষ্টার পরেও নিজের কাছের বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন ছাড়া তেমন কেউ তার ধর্মে দীক্ষিত হয়নি। মক্কায় ইসলাম প্রচারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে চিন্তা করল মদীনায় যাবার। তখন মদীনা ছিল ইহুদীদের ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র এবং ধনী শহর। মুহম্মদ চিন্তা করল, সে যদি মদীনায় গিয়ে ইসলাম প্রচার করে এবং যদি ইহুদীরা সেটা গ্রহন করে, তাহলে মক্কায় তার সম্মান এবং প্রতিপত্তি বাড়বে যেটা তার ইসলাম ধর্মও প্রচার করতে সাহায্য করবে। তখন মুহম্মদ তখনকার সময়ে যত ধর্মগ্রন্থ ছিল যেমন বাইবেল, পৌত্তলিক, তোরাহ সবগুলিকে একসাথে করে একটি ধর্মগ্রন্থ তৈরি করার চেষ্টা করল যাতে এটি ইহুদীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। এইজন্যই ইহুদী ধর্ম এবং ইসলাম ধর্মের মধ্যে অনেক মিল লক্ষ্য করা যায়। উদাহরনস্বরূপ, মুসলিমরা শুকর খায়না, ইহুদীরাও শুকর খায়না। ইহুদীরা দিনে কয়েকবার প্রার্থনা করে, মুসলমানেরা পাঁচ বার নামাজ পড়ে। ইহুদীরা ইয়ুম কিপুরে অভুক্ত থাকে, মুসলিমরা রমজান মাসে রোজা রাখে। এমনকি প্যাগানদের ধর্মের সাথেও ইসলামের অনেক মিল পাওয়া যায়। প্যাগানদের চন্দ্র দেবতা হুবালের অবিকল বিবরন পাওয়া যায় কুরআনে, এমনকি হুবালের প্রতীক চাঁদ তারা চিহ্নটিও ইসলামের চিহ্ন হিসেবে মসজিদের মিনারের উপরে দেখতে পাওয়া যায়
সেই কারনেই কুরআনের প্রথম দিকে খেয়াল করলে দেখবেন, সব ভাল ভাল কথা লেখা। কারন এই ভাল ভাল লেখার মাধ্যমেই মদীনার ইহুদীদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করাই ছিল তার লক্ষ্য। তারপর সে মদীনায় গিয়ে বলা শুরু করল, এই দেখো তোমাদের নবীদের সাথে আমাদের কত মিল, তোমাদের ধর্মের সাথে আমাদের কত মিল, আমিই হলাম শেষ নবী, তোমরা ইসলাম ধর্ম গ্রহন কর। যখনি ইহুদীরা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে অস্বীকৃতি জানালো, তখনি মুহম্মদ হত্যাযজ্ঞ শুরু করল যুদ্ধের নামে। প্রথম ১২ বছর যেই ধর্ম শান্তিপূর্ণ ছিল, কিছু অনুসারী যুক্ত হয়ে যাবার পর সেই শান্তির ধর্ম পরিনত হয় একটি রাজনৈতিক খুনী ধর্মে। ১২ বছর পর, মদীনায় হিজরতের পরেই যখনি অনেক ইহুদী গোষ্ঠী ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে অস্বীকৃতি জানায়, তখনি রাজনীতির প্যাচে যুদ্ধের মাধ্যমে ধর্ম প্রচার শুরু করে যুদ্ধবাজ মুহম্মদ। যেই মদীনা ছিল ইহুদী এবং খ্রিস্টানদের ব্যবসাকেন্দ্র, খুনী মুহম্মদের হত্যাযজ্ঞের কারনে মদীনা মুসলমানদের আয়ত্তে চলে আসে। তখন ইহুদীরা এবং খ্রিস্টানরা সংখ্যালঘু হিসেবে পরিনত হয়, এবং তাদের উপর ধার্য করা হয় জিজিয়া কর। যদি জীবিত থাকতে চাও, জিজিয়া কর পরিশোধ করতেই হবে। এই জিজিয়া কর হল মুসলমানরা যাতে তাদের হত্যা না করে সেই জন্য তাদের প্রটেকশন ট্যাক্স। ইহুদী খ্রিস্টানদের হাতে তখন দুইটা পথ খোলা ছিল, হয় ইসলামের পথে আসো, নইলে জিজিয়া কর দিয়ে জীবন্ত থাকো। এইজন্যেই ইসলামিক দেশে বাধ্যতামুলকভাবে এখনও অমুসলিমদের জিজিয়া কর পরিশোধ করতে হয়। খ্রিস্টানরা তখন চার্চের ঘন্টা বাজাতে পারতো না, জনসম্মুখে প্রার্থনা করতে পারতো না, খ্রিস্টান এবং ইহুদীরা কখনো নতুন চার্চ বা প্রার্থনাকেন্দ্র তৈরি করতে পারত না। প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট দিনে খ্রিষ্টান এবং ইহুদীরা একত্রিত হয়ে নতজানু হয়ে মোল্লাদের কাছে জিজিয়া ট্যাক্স প্রদান করত। এবং তাদের গলায় একটি নেকলেস পড়ে থাকতে হত, যেটা একটা রশিদ এবং প্রমান হিসেবে থাকতো যে এই ইহুদী অথবা খ্রিষ্টান জিজিয়া কর দিয়েছে, একে না মারা হোক।
আস্তে আস্তে ইসলামের প্রসার বাড়তে লাগলো। যুদ্ধ এবং খুনের বিরুদ্ধে শান্তিকামী বিধর্মীরা টিকতে পারছিল না। তারা আত্মসমর্পণ করা শুরু করল। ইহুদী এবং খ্রিস্টানদের খুব নিচু দৃষ্টিতে দেখা হত। তাদের পোশাক ভিন্ন ছিল। তাদের কাপড়ে বাধ্যতামুলকভাবে হলুদ রঙের তারা চিহ্ন পড়ে থাকতে হত। অনেকেই ভাবে ইহুদীদের এই হলুদ রঙের তারা চিহ্ন পড়ানো হয়তবা হিটলারের মাথা থেকে এসেছে। আসলে এটা ইসলামের আবিষ্কার। নবম শতাব্দীতেও ইরাকে দ্বিতীয় খলিফা খলিফ আল মুতাওয়াক্কি এই হলুদ তারা চিহ্নের প্রচলন করেন ইহুদীদের জন্য। তখনো ইহুদিদের সংখ্যালঘু হিসেবে ধরা হত। যদি একজন মুসলিম এবং একজন ইহুদী রাস্তার একই দিকে মুখোমুখি হত, ইহুদীকে রাস্তা পার হয়ে অপর দিক দিয়ে চলতে হত। কারন ইহুদীদের তখন নোংরা, অশুচি অথবা পশুর সমতুল্য মনে করা হত। যাতে ইহুদীদের স্পর্শ না লাগে তাই তাদের মুসলমানদের আসে পাশেও যাওয়া মানা ছিল। খ্রিস্টানদের জন্য দেয়া হয়েছিল ” জুন্নার ” নামক বেল্ট যাতে তাদের চিহ্নিত করা যায়। এখন আমরা যে বেল্ট পড়ি, এটা মুসলমানদের আবিষ্কার খ্রিস্টানদের আলাদা করার জন্য।
ইতিমধ্যে মুসলিমরা পৌঁছে যায় জেরুজালেমে। তারা জেরুজালেম দখল করে ফেলে। সেইখানেও খ্রিস্টানদের উপর জুলুম নির্যাতন শুরু হয়। সেই সময়ে ১০৯০ খ্রিস্টাব্দে রোমের পোপ খ্রিস্টানদের এই জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার আহ্বান জানান। সমগ্র খ্রিস্টানদের একতাবদ্ধ হয়ে জেরুজালেমে নির্যাতিত খ্রিস্টানদের উদ্ধার করার ঘোষনা দেওয়া হয়। ঠিক তখনই শুরু হয় ক্রুসেড যুদ্ধ। ক্রুসেডাররা কোন কারন ছাড়াই মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেনি। ক্রুসেডারদের মুল লক্ষ্য ছিল জেরুজালেমকে মুক্ত করা। ক্রুসেডাররা ১০০ বছর পর্যন্ত জেরুজালেম স্বাধীন রেখেছিল যতক্ষণ না পর্যন্ত মুসলিম সেনাপতি সালাহাদিন আইয়ুবী জেরুজালেম আবার দখল করে নেয়। আবারো শুরু হয় জেরুজালেমে মুসলিম শাসন। শেষ পর্যন্ত ১৯৬৭ সালে ইহুদীরা আবার জেরুজালেম তথা ইজরায়েল দখল করে নেয় এবং ইহুদী খ্রিষ্টান মুসলিমদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা পায়।
ক্রুসেডাররা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে ৩০০ বছর পর্যন্ত কিন্তু বার বার ব্যর্থ হয়েছিল জেরুজালেম মুক্ত করতে। ১৩০০ শতাব্দীর শেষের দিকে এসে ক্রুসেডাররা বিলুপ্ত হয়ে যায় কারন তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে একবারও জয়লাভ করতে পারেনি। ধীরে ধীরে ইসলাম সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। মুসলিমরা পৌঁছে যায় ইউরোপে, চায়না, ইন্ডিয়া। তারা দখল করে নেয় স্পেন এবং স্পেনের নাম পরিবর্তন করে রাখে আন্দালুসিয়া। ধীরে ধীরে আরো অনেক দেশ দখল করে নেয় মুসলিমরা। এবং সেই সব দেশের বিধর্মীরা জিজিয়া কর প্রদান করতে শুরু করে। এভাবেই গড়ে ওঠে ইসলামিক সাম্রাজ্য।
শেষ পর্যন্ত মুসলিমরা আটকে যায় ভিয়েনার সিমান্তে নভেম্বরের ৯ তারিখে। নভেম্বরের ৯ তারিখ অনেক বিখ্যাত টুইন টাওয়ার হামলার কারনে। এই তারিখটি মুসলিমদের কাছে অনেক গুরুত্ব বহন করে। ১৬০০ শতাব্দীর দিকে পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তে ইসলামের আধিপত্য বিস্তার করে। ১৬০০ থেকে ১৮০০ শতাব্দীর দিকে রোমান সাম্রাজ্য শিল্পে অনেক উন্নতি সাধন করে। তারা অনেক পন্য তৈরী এবং বিক্রি করা শুরু করে। এই অর্থ দিয়ে তারা রোমান সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য। এবং এই সামরিক শক্তি দিয়েই তারা নভেম্বরের ৯ তারিখে ভিয়েনার সীমান্তে মুসলিম বাহিনীকে থামিয়ে দেয়। রোমানরা তখন মুসলিমদের পিছু হটিয়ে দিতে শুরু করে। মুসলিমরা রোমানদের সাথে পেরে না উঠে ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকাতে চলে যেতে বাধ্য হয়। ১৯২৪ সালে ইসলামী আধিপত্য শেষ হয় তুরস্কে কামাল আতাতুর্ক এর হাতে। কামাল আতাতুর্ক ছিলেন একজন সেক্যুলার দেশনায়ক এবং তিনি ইসলামী খিলাফত শেষ করে দেন। তিনি নারীদের ভোট দেওয়ার অধিকার দেন, তাদের কাজ করার অধিকার দেন, পড়াশুনা করার অধিকার দেন, স্বামী পছন্দ করার অধিকার দেন। মেয়েদের বাধ্যতামুলক হিজাব বাতিল করেন, পুরুষদের বাধ্যতামুলক দাড়ি রাখা বাতিল করেন। এই সমস্ত কার্যক্রমের জন্য মুসলিমরা তাকে মনে প্রানে ঘৃণা করে থাকেন এবং অনেকেই তাকে ইহুদীদের এজেন্ট বলে দাবী করে থাকেন। ১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্কের হাতেই ইসলামী খিলাফত তথা ইসলামী সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়। সারা বিশ্বে ইসলামী খিলাফত বজায় ছিল প্রায় ১৪০০ বছর এবং এর শেষ হয় প্রায় ১০০ বছর আগে। এই ১৪০০ বছরে সারা বিশ্বে প্রায় ২৭ কোটি (২৭০ মিলিয়ন) মানুষ হত্যা হয় মুসলিমদের হাতে। মনে করিয়ে দেই সেই সময় কোন এটম বোমা অথবা নিউক্লিয়ার মিসাইল ছিল না। এই ২৭ কোটি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে কসাইয়ের মত শুধু তলোয়ার দ্বারা আর বল্লম দ্বারা। সহিহ বুখারীতেও বর্ণনা করা হয়েছে ইসলাম বিজয়ী হয়েছে সন্ত্রাসের মাধ্যমে।
সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০:
শত্রুর মনে সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে আমাকে বিজয়ী করা হয়েছে।
সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ৭৩:
তোমরা জেনে রাখ, তরবারীর ছায়ার নীচেই জান্নাত।
এই কারনেই সৌদি আরবের পতাকায় তরবারির প্রতীক এখনো দেখতে পাওয়া যায়।
১৯২৪ সালে যখন ইসলামী খিলাফত যখন থেমে যায় সবাই মনে করেছিল, ইসলামী খিলাফত আর ফিরে আসবে না। কিন্তু শেষ ১০০ বছরে মধ্যপ্রাচ্যে ২ টি কারনে ইসলামী খিলাফত আবার নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। একটি হল সৌদি আরবের তেল বিক্রির টাকা এবং আরেকটি হল ১৯৭৯ সালে ইরানে আয়াতুল্লাহ খোমেনীর ক্ষমতা গ্রহন। মুসলিমরা তখন টাকাও পায় এর সাথে সাথে পায় ইসলামিক মতাদর্শ। অনেকেই বলে সৌদি আরব ওহাবী মতাদর্শে চলে এরা সহিহ মুসলিম নয়। কিন্তু ওহাবীরা মুহম্মদের মুখের বানী এবং তার কাজকর্মকে শতভাগ অনুকরন করে চলে। এবং এই কারনেই কোন অমুসলিম মক্কা শরিফে প্রবেশের অনুমতি পায়না কারন মুসলিমরা মনে করে অমুসলিমরা অপবিত্র এবং ঘৃণিত। আইসিস সবসময়ই নতুন সদস্য সংগ্রহ করার সময় সৌদি আরবকে উদাহরন হিসেবে দেখায় যে ,দেখো সৌদি আরবকে আল্লাহ্‌ কত মেহেরবানী করেছেন এইজন্য যে তারা ইসলামকে রক্ষা করে চলছে। তারা কাফেরদের দেশে ঢুকতে দেয় না, ইসলামী শাসনতন্ত্র মেনে চলে তাই আল্লাহ্‌ এই দেশকে তেল দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন।
আইসিস ইসলামী খেলাফতেরই আরেকটি পুনরুত্থান। কারো মনে প্রশ্ন জাগেনা আইসিস কিভাবে এত অল্প দিনে এত বিস্তার লাভ করেছে অথবা এত অর্থ সাহায্য কোথা থেকেই বা পাচ্ছে।
ইসলাম এবং ইসলামী যুদ্ধের নীতি সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমাদের জেনে রাখা দরকার।
একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হচ্ছে, তাকিয়া আইন। তাকিয়া শব্দের মানে হল মিথ্যা অথবা ধোঁকা। তার মানে হল একজন মুসলিম কোরানের উপর হাত রেখেও মিথ্যা কথা বলতে পারবে, কারন সে জানে আল্লাহ্‌ তাকে ক্ষমা করবে কারন সে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করছে।
আরেকটি হল হুদাইবিয়ার সন্ধি। যেটা একটি ইসলামিক যুদ্ধের আদর্শ এবং কিভাবে শান্তিচুক্তি করেও শত্রুকে কিভাবে ধোঁকা দিয়ে পরাজিত করতে হয়। এটি মুহম্মদের জীবনের আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত। মুহম্মদ নিজেও অনেক কাফেলাতে আক্রমন করে তাদের জবাই করে হত্যা করে লুন্ঠন চালিয়েছে। সব পুরুষকে হত্যা করে নারীদের সাহাবাদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছে এবং বাকিদের দাসদাসী হিসেবে বাজারে বিক্রি করে সম্পদ গড়ে তুলেছিল। এবং এই লুন্ঠনকৃত মালামাল এবং নারীদের গনীমতের মাল হিসেবে বিবেচনা করা হত। তখন কোন কাজকর্ম ছাড়াই অর্থলাভ করার এর চেয়ে ভাল কোন উপায় মুহম্মদ খুজে পায়নি। তবে কয়েকটি মাসে কোন ধরনের রক্তপাত নিষিদ্ধ ছিল তখনকার মক্কা এবং মদীনায়। তাই নিষিদ্ধ মাস শেষ হবার সাথে সাথেই আবার আক্রমন শুরু করে মুহম্মদ।
কোরানেও বলা আছে,
সুরা তাওবা – ৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
কিন্তু কিছু মক্কার কাফেলা অনেক বড় এবং শক্তিশালী থাকায় তাদের আক্রমন করার সাহস পায়নি মুহম্মদ। তখন তাদের সাথে ১০ বছরের শান্তিচুক্তি করে। চুক্তিগুলি ছিল যে এই ১০ বছরে মুহম্মদ তাদের কাফেলার উপর আক্রমন করবে না, শান্তি বজায় থাকবে অথবা কোন রকম যুদ্ধ করা যাবে না। প্রথম ২ বছরে মুহম্মদ সেনাবাহিনী গঠন করে এবং তাদের শক্তিশালী করে। যখন সে বুঝতে পারল যে এখন সে মক্কার উপর আক্রমন করার জন্য সক্ষম তখন সে মক্কায় আক্রমন করে বসলো। মক্কার মানুষরা এই হামলার জন্য প্রস্তুত ছিলনা কারন তারা জানত যে যেহেতু চুক্তি করা আছে সেহেতু মুহম্মদ আক্রমন করবে না। এবং এভাবেই হুদাইবিয়ার চুক্তি ভঙ্গ করে মুহম্মদ খুব সহজেই মক্কা দখল করে ফেলে।
এখনো মুসলিমরা এই হুদাইবিয়ার সন্ধির মত চুক্তি করে ধোঁকার মাধ্যমে বিজয়ী হওয়ার চেষ্টা করেই যাচ্ছে। একটা উদাহরন দেই, শিয়া অধ্যুষিত ইরানের সাথে অন্য কোন দেশ যতই চুক্তি করুক না কেন, তারা জানে এই চুক্তির এক পয়সাও মুল্য নেই।
সারা মুসলিম বিশ্বে ২০১৩ সালে একটি সমীক্ষা চালানো হয়। ২ টি প্রশ্ন করা হয়েছিল তখন।
একটি হল, ” আপনি কি আপনার দেশে শরিয়া আইন দেখতে চান?”
দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল, ” আপনি কি ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠা দেখতে চান?”
মনে করিয়ে দিতে দেই, এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল আইসিস গঠনের আগে। পাঁচটি সবচেয়ে বড় মুসলিম প্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়া,পাকিস্তান, ইজিপ্ট, নাইজেরিয়া এবং বাংলাদেশের ৭৭% জনগোষ্ঠী ইসলামী খিলাফত এবং শরিয়া আইনের পক্ষে সমর্থন দিয়েছিল। সুতরাং যারা নিজেদের মডারেট মুসলিম মনে করে তারাই কিন্তু এই সমীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এবং বর্তমানে তাদের ইচ্ছাই সত্যি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আইসিস। এবং আইসিস আজ যেসব হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছে, তার নিরব সমর্থনকারী এই মডারেট মুসলিমরাই।
এই হল ইসলামের উত্থানের সত্যি ঘটনা যা বিভিন্ন বিশ্বস্ত সুত্র, উইকি এবং ইসলামী ইতিহাস থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছে যা বাংলাদেশের কয়জন জানে সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে আমার। আইসিস আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য। তারা ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। এখনই যদি এদের থামানো সম্ভব না হয় পৃথিবীর জন্য অনেক দুর্ভাগ্য অপেক্ষা করছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

 

 

আমরা কেমন দেশপ্রেমিক?

একটা ভিডিও দেখলাম আজকে।

একজন ইন্ডিয়ান কমেডিয়ান বাইরের কোন দেশে ইন্ডিয়ান রাজনীতিবিদদের নিয়ে জোকস বলছে। দেশের সিস্টেম, রাজনৈতিক সমস্যা, দুর্নীতি এসব নিয়ে। খুব সিরিয়াস না, খুব নিষ্পাপ কিছু জোকস।

কমেন্ট সেকশনে গিয়ে দেখলাম, কোন ইন্ডিয়ান এই ব্যাপারটাকে ভালভাবে নেয়নি। তাদের সবারই অভিমত, বাইরের দেশে গিয়ে ইন্ডিয়াকে ছোট করাটা উচিত হয়নি। অল্প হাসির জন্য নিজের দেশের বদনাম করার জন্য তাকে দেশদ্রোহী বলতেও দেখলাম।

তখনই নিজের দেশের কথা মনে পড়ে গেল।

আমরা বাংলাদেশীরা কিভাবে বাইরের দেশে নিজের দেশের দুর্নাম করি। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে ডিম মারি,কোন মন্ত্রীর বিদেশে আসা নিয়ে কেন্দ্র করে বিদেশের এয়ারপোর্টে মারামারি করি, বিদেশের পার্লামেন্টের সামনে গিয়ে নিজ দেশের সরকারের বিরুদ্ধে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে সরকারের দুর্নাম করি, কেউ বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে আগেই দেশের সমস্যাগুলি তুলে ধরে প্রমান করতে চেষ্টা করি, আমার দেশের অবস্থা কত খারাপ। ফেসবুকে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের নিয়ে মজার ভিডিও বানাই আর সমানে লাইক দেই এবং শেয়ার করি।

আমার দেশে অনেক সমস্যা আছে, এটা মানতে আমার কোন লজ্জা নেই। কোন দেশে সমস্যা নেই? কিন্তু বিদেশে গিয়ে নিজ দেশের দুর্নাম করাটা কি বাংলাদেশের জন্য খুব কল্যাণকর? আমাদের গর্ব করার মতো কত বিষয় আছে। সুন্দরবন আছে, কক্সবাজার আছে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আছে। তারপরেও সব নেগেটিভ জিনিষ তুলে ধরে মনে মনে শান্তি পাই যে দেশের অনেক বড় উপকার করে ফেলেছি।

বিদেশে নিজের দেশের দুর্নাম করাটা কখনোই শোভনীয় নয়। বরং নিজ দেশের ভাল দিকগুলি তুলে ধরা, তার পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী নিজ দেশের উন্নয়নে ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা করাই দেশপ্রেমিকের কাজ, বিদেশে নিজের দেশের বদনাম করা নয়।

ইন্ডিয়ানদের কাছে আমাদের অনেক কিছুই শেখার আছে যদিও আমরা গ্রহণ করেছি তাদের সিনেমা, নাচ আর গান।

বাংলাদেশ কি তবে একটি জঙ্গী রাস্ট্রে পরিনত হচ্ছে?

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ কি তবে জঙ্গীদের নতুন টার্গেটে পরিনত হয়েছে?

গত দুই সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রান্তে চলছে জঙ্গীদের কর্মকাণ্ড। যা বাংলাদেশে এখন অবধি হয়নি, সেই আত্মঘাতী বোমা হামলাও হয়ে চলছে একের পর এক। চলছে পুলিশের উপর একের পর এক হামলা। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা জঙ্গীদের ভাষায় ” তাগুত” বাহিনীর উপরে চলছে হামলা। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে নিরপরাধ মানুষ।

আইসিস এখন পর্যন্ত অনেকগুলি হামলার দায় স্বীকার করে নিয়েছে। দেশে আইসিসের কর্মকাণ্ড চলছে এটা নিয়ে কোন সন্দেহই নেই। বাংলাদেশে জঙ্গী তৎপরতা বেড়েই চলেছে। এমনকি বিয়ের মাধ্যমে জঙ্গী নিয়োগ চলছে বলে জানা যাচ্ছে। এরা পরিচয় গোপন করে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম।

প্রত্যেকটা হামলার পরেই অনেক মডারেট মুসলমান কিবোর্ড যোদ্ধা হিসেবে হাজির হয়ে যান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলিতে। ”ইসলাম শান্তির ধর্ম”, ” ইসলাম এইসব সাপোর্ট করেনা”, ”জঙ্গীরা মুসলিম নয়”, ” এগুলি ইহুদী নাসারাদের ষড়যন্ত্র” ইত্যাদি ইত্যাদি লিখে মাখিয়ে ফেলেন। কেউ কেউ মনে করেন কোন ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্যেই এগুলি কোন সাজানো নাটক। এগুলি লিখে মনের শান্তিতে ইসলামকে রক্ষা করে ফেলেছেন ভেবে শান্তিতে ঘুমাতে যান। তবুও কোনভাবেই ধর্মের দোষ দেয়া যাবে না।

কালকে যদি ২ জন নাস্তিক, ”নাস্তিকতাই শ্রেষ্ঠ” বলে কোথাও আত্মঘাতী বোমা হামলা করে, তখন এই মুমিনরা কাকে দোষ দিবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

কিন্তু একজন নাস্তিক কোন ব্লগে ইসলাম নিয়ে কোথায় কি লিখল, সেটা খুজে বের করে পড়ে, ইস্লামানুনুভুতিতে আঘাত নিয়ে, চাপাতি ধার করতে করতে রাস্তায় গিয়ে ”নাস্তিকদের ফাঁসি চাই” চিৎকার করতে মোটেও কষ্ট হয়না। কিন্তু কাউকেই দেখা যায়না জঙ্গীদের বিরুদ্ধে রাস্তায় মিছিল করতে।

আমি গিয়েছিলাম একটি ইসলামিক চ্যাটরুমে। সেখানে নিজেকে মুসলিম সাজিয়ে কিছুক্ষন গল্প করে ইসলাম সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন শুরু করলাম। তারা ভেবেই নিল আমি একজন পাক্কা মুসলমান। তারপর শুরু করলাম জিহাদ বিষয়ক প্রশ্ন। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম, জিহাদ কি ফরজ। ওনারা বললেন ”হ্যা”। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এই যে জঙ্গীরা বোমা হামলা করছে এটা কি ইসলাম সাপোর্ট করে? তারা বললেন, ”না”। সেই আয়াত নিয়ে আসলেন, ”যে একটা মানুষকে হত্যা করল, সে সারা পৃথিবীর মানুষ হত্যা করল”। আমি তখন জিজ্ঞাসা করলাম, ” এই যে ইসলামে জিহাদ নিয়ে ১০০ এর উপরে আয়াত আছে, মুহম্মদ নিজেও বিধর্মীদের হত্যা করেছেন, ইসলামের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালে, ইসলামের জন্য শহীদ হতে বলেছেন। জিহাদীরা তো ইসলাম পালন করছে,তো এখানে সমস্যা কোথায়”?

ওনারা বললেন, ” নামাজ পড়ার সময় হয়ে গিয়েছে, পরে একদিন এসব নিয়ে আলোচনা হবে”।

কিন্তু জঙ্গী কি কেবল সশস্ত্র জঙ্গীরাই? ফেসবুকে ও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে জঙ্গীদের অনেক সমর্থক দেখা যাচ্ছে যারা আপনার আমার মতই সাধারন মানুষ। কয়েকদিন আগে লন্ডনে যে জঙ্গী হামলা হয়েছে, বিভিন্ন কমেন্টে অনেককেই দেখা গেছে, জঙ্গীর জন্য দোয়া করতে, তাকে সাহসী বীর হিসেবে উপাধি দিতে। বাংলাদেশে একের পর এক জঙ্গী হামলার পরে অনেককেই দেখা গেছে এগুলো সব সরকারের সাজানো নাটক বলে দাবী করতে। অস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গীকে না হয় দমন করা গেল, কিন্তু অস্ত্রবিহীন কত জঙ্গী আমাদের ভিতরেই অবস্থান করছে তাদেরকে কিভাবে দমন করবেন?

আমার সোনার বাংলা জঙ্গীদের থাবায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, দিন দিন একটি জঙ্গী রাষ্ট্রে পরিনত হচ্ছে। আমরা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছি, কিন্তু কিছুই করতে পারছি না। এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কিছুই হতে পারে না। আমি চাইনা, আমার প্রিয় বাংলা আরেকটি পাকিস্তান অথবা আফগানিস্তানে পরিনত হোক। এখনি সময় এদের রুখে দাঁড়াবার।

মুক্তচিন্তার জয় হোক।

 

বিবর্তন বনাম ধর্ম

বিবর্তন একটি প্রমানিত সত্য হলেও প্রায় প্রতিটি ধর্মই এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। কারন বিবর্তন যদি ধর্মগুলি স্বীকার করে নেয় তাহলে ধর্মগুলির কোন অস্তিত্ব থাকে না। এত বছর ধরে গড়ে ওঠা ধর্ম বানিজ্য এক মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাবে।

বিবর্তনের মত প্রমানিত সত্যকে ধার্মিকদের বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও অক্সিজেন ছাড়াই বোরাকে চড়ে সপ্ত আসমান গমন অথবা মাছের পেটে বেঁচে থাকা কিংবা চাঁদকে আঙ্গুলের ইশারায় দুই ভাগ করে ফেলাকে বিশ্বাস করতে তাদের একটুও কষ্ট হয়না। এই সমস্ত নাকি ঈশ্বরের মিরাকেল। যদি ঈশ্বর তার প্রেরিত নবীদের কথা সত্যি প্রমান করতে মিরাকেল দেখাতে পারেন তবে সেই নবীদের ক্রুশবিদ্ধ অথবা ইহুদীর বিষপ্রয়োগে হত্যা হওয়ার সময় কেন মিরাকেল দেখালেন না, সেই প্রশ্নের কোন উত্তর পাওয়া যায়না। যদিও এসব মিরাকেলের ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় শুধু ধর্মগ্রন্থগুলিতে যেগুলির কোন ঐতিহাসিক চাক্ষুষ প্রমান পাওয়া যায়না।

একজন ধার্মিকের সাথে বিবর্তন নিয়ে তর্ক হচ্ছিল। মানুষ কিভাবে বানর থেকে এসেছে, এই প্রশ্ন করেই সে হেসে কুটিকুটি। আমি তাকে দেখালাম, কার্বন ডেটিং, ফসিল রেকর্ডস এবং আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রমান। সে তখন আমাকে দেখালো, এটা নাকি কুরানে অনেক আগে থেকেই বলা আছে।

”যাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের প্রতি তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন”—–৫:৬০

এই আয়াত দ্বারাই নাকি প্রমানিত, আমরা যেসব ফসিল দেখছি সেসব নাকি আল্লাহ্‌র আজাব তাই এসব ফসিল হল সেই সব অভিশপ্ত বানরদের ফসিল। আমি তাকে পাল্টা প্রশ্ন করলাম, তাহলে আমরা কেন এখনো কোন প্রাচীন অভিশপ্ত শুকরের ফসিল খুজে পাইনি?

সেই ধার্মিকটি বললেন, ওনার একটু তাড়া আছে, তাই তাড়াহুড়া করে চলে গেলেন।

অনেকেই বলেন, যদি আমরা বানর থেকেই বিবর্তিত তাহলে এখনো কেন বানর দেখতে পাওয়া যায়? তাদের উদ্দেশ্যে বলি, আমরা বানর থেকে সৃষ্ট নই। আমরা সবাই একই এনসেস্টর থেকে এসেছি। শিম্পাঞ্জী এবং আমাদের পূর্বপুরুষ একই যারা ৬ মিলিয়ন বছর আগে এই পৃথিবীতেই বসবাস করত। মানুষ, শিম্পাঞ্জী, ওরাংওটাং, বেবুন আমরা সবাই চাচাতো ভাই। আমরা সবাই বিবর্তনের মাধ্যমে আজকে এই অবস্থায় পৌঁছেছি।

আরেকটি প্রশ্ন অনেকেই করে, যদি বিবর্তন সত্যি হয়েই থাকে তবে এখন কেন বিবর্তন দেখা যায়না? তাদেরকে বলি, আপনি যদি কয়েকশো মিলিয়ন বছর বাঁচতে পারেন, আপনিও নিজের চোখে বিবর্তন দেখতে পাবেন। একটি প্রানী থেকে কাঠামোগত দিক দিয়ে পরিবর্তন হতে অনেক মিলিয়ন বছর সময় লাগে। এটা কোন ম্যাজিক নয় যে, পাঁচ বছরেই কুকুর থেকে মুরগী হয়ে যাবে। তবে কিছু পরিবর্তন আপনি নিজেও খেয়াল করতে পারেন। আগের যুগের মানুষ অনেক লম্বা এবং দীর্ঘায়ু ছিল। দিন দিন মানুষের উচ্চতা কমছে এবং মানুষের বুদ্ধি বাড়ছে। তাই চাইনিজদের বর্তমান শতাব্দীর সবচেয়ে আধুনিক মানুষ বলা হয়ে থাকে। ২০-৩০ বছর আগেও বাচ্চারা ৪-৫ বছরের আগে ঠিকভাবে কথা বলতে পারতো না, এখন আমরা দেখতেই পাচ্ছি এই বয়সের বাচ্চারা কত স্মার্ট। বিবর্তন হচ্ছে ঠিক আমাদের চোখের সামনে কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছিনা। যেমন আপনার পরিবারের সাথে যদি আপনি সবসময় থাকেন তাদের কোন পরিবর্তন আপনি দেখতে পান না, কিন্তু কয়েক বছর পর যদি দেখা হয়, তখন খেয়াল করেন আপনার বাবা হয়ত একটু শুকিয়ে গেছেন অথবা আপনার ভাই একটু মোটা হয়ে গেছেন।

কয়েকদিন আগে বইমেলায় একটা বই বের হয়েছে ”প্যারাডক্সিকাল সাজিদ” নামে। বিবর্তনকে ডিবাঙ্ক করাই ছিল এই বইয়ের উদ্দেশ্য। ধর্মের সাথে ভুয়া নিউজপেপারের লিঙ্ক যুক্ত করে বিবর্তনের মত প্রমানিত সত্যকে মিথ্যা প্রমান করার অপচেষ্টা। যেই বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সূর্য থেকে নাকি পৃথিবীতে কার্বন ডাই অক্সাইড পৃথিবীতে আসে, এবং পৃথিবীর ওজোনস্তরের কারনে নাকি কার্বন ডাই অক্সাইড নাকি পৃথিবীর বাইরে বের হতে পারেনা। এটাই নাকি গ্রীন হাউস এফেক্ট। এছাড়াও কোন পীয়ার রিভিউড জার্নালের তোয়াক্কা না করেই কিছু নিউজপেপারের কোটেশন দিয়েই নাকি বিবর্তনকে মিথ্যা প্রমান করা হয়েছে। বাংলাদেশের ধার্মিক জনগোষ্ঠী তথা মুসলমানদের কাছে নাকি এই বই হটকেকের মত বিক্রি হচ্ছে। যদি এই আরিফ আজাদ বিবর্তনের মত একটি প্রমানিত সত্যকে মিথ্যা প্রমান করতে পারে, সে কেন এখনও নোবেল পায়নি অথবা সারা বিশ্বে তাকে নিয়ে কেন আলোড়ন হয়নি অথবা তার বই কেন শুধুমাত্র নিউমার্কেটের বইয়ের দোকানেই সীমাবদ্ধ, সেই প্রশ্ন কিন্তু রয়েই যাচ্ছে।

আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করি,

যেখানে স্টিফেন হকিন্স, বিল নাই অথবা নীল ডিগ্রেস টাইসনের মত বাঘা বাঘা বিজ্ঞানীরা নাস্তিক অথবা অজ্ঞেয়বাদী, যারা মহাবিশ্বের রহস্য খুজে বের করার চেষ্টা প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছেন, আবার বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের কোন মাদ্রাসার একজন ছাত্র দাবী করে, কুরআন পড়েই নাকি মহাবিশ্বের সব রহস্য জানা সম্ভব।

প্রসঙ্গঃ”ডুব”, ফারুকী, শাওন ও বান্টি মীর

প্রসঙ্গঃ ”ডুব”, ফারুকী, শাওন ও বান্টি মীর

ইরফান খান অভিনীত, মোস্তফা সারওয়ার ফারুকী পরিচালিত ”ডুব” সিনেমা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ”ডুব” সিনেমা মুক্তি নিয়েও কম জল ঘোলা হয়নি। হয়ত পহেলা বৈশাখে ”ডুব” মুক্তি পাবে বলেই আমার ধারনা।

হুমায়ুন আহমেদের জীবনী নিয়ে এই মুভিটি তৈরি কিনা তা নিয়ে অনেক সংশয় তৈরী হয়েছে। হুমায়ুন পত্নী শাওন দাবী করেছেন, ”ডুব” মুভিটি হুমায়ুন আহমেদের জীবনী নিয়েই তৈরী। এবং এর পিছনে পিছনে যথেষ্ট কারন আছে বলেও তিনি দাবী করেন। আনন্দবাজার পত্রিকার মাধ্যমে ফারুকীর ইন্টারভিউতে তিনি বলেছিলেন, এটা হুমায়ুন আহমেদের জীবনের উপর নির্মিত, এমনকি এই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী পার্ণো মিত্রও ফেসবুকের মাধ্যমে জানান যে তিনি শাওনের চরিত্রে অভিনয় করছেন।

এই খবর শোনার পরপরেই শাওন দাবী করলেন, হুমায়ুন আহমেদের জীবনী নিয়ে সিনেমা তৈরী করা হলে, তার পরিবারের সাথে কথা বলার প্রয়োজন কেন সিনেমার পরিচালক মনে করলেন না? একবার অন্তত অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন ছিল, ভদ্রতার খাতিরে হলেও।

তার পরপরেই ফারুকীর কথার সুর পালটে যায়। উনি বলেন, এই সিনেমার চরিত্র সব কাল্পনিক। কারো সাথে সিনেমার কাহিনী মিলে গেলে সেটা কাকতালীয় মাত্র। বেশি বয়সী নায়কের সাথে কম বয়সী মেয়ের প্রেমের গল্প এটা নতুন নয়। কিন্তু যেখানে গল্পের কাহিনীতে মেয়ের বান্ধবীর সাথে প্রেমের গল্প সেখানে হুমায়ুন আহমেদের জীবনী আমরা যারা জানি, সেটা কাকতালীয় কি?

আমি কারো পক্ষে নই, আবার বিপক্ষেও নই।

যদি আসলেই সিনেমার গল্প হুমায়ুন আহমেদের জীবনীর অনুকরনে হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই তার বর্তমান পরিবারের অনুমতি অথবা তাদের সাথে কথা বলা জনাব ফারুকীর উচিৎ ছিল। হয়ত বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়া কারো জীবনীর উপর সিনেমা বানাতে অনুমতির প্রয়োজন হয়না, তবুও ভদ্রতার খাতিরে এটুকু উনি করতেই পারতেন। সত্য স্বীকার করতে এত ভয় কেন একজন স্বনামধন্য পরিচালকের? আনন্দবাজার পত্রিকার রিপোর্টারের বক্তব্য, অভিনেত্রীর স্বীকারোক্তি, সিনেমার গল্পের কাহিনীর সম্পর্কে যতটুকু জানা গেছে, তাতে এটা হুমায়ুন আহমেদের জীবনী নিয়ে তৈরি এটা সন্দেহ করাই যায়। যদি সিনেমা মুক্তির পরে এই সন্দেহ যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে জনাব ফারুকীর বক্তব্য কি হবে? নাকি এই সবই সিনেমা হিট করার জন্য ” নেগেটিভ মার্কেটিং” ?

এবার আসি শাওনের ব্যাপারে। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে শাওনকে পছন্দ করিনা। যিনি নিজের বান্ধবীর বাবার সাথে প্রেম করে বিয়ে করতে পারেন, একটি সাজানো সংসারে ভাঙ্গন ধরাতে পারেন আমি তাকে আর যাই হোক একজন সৎ মানুষ বলতে পারিনা। হুমায়ুন সাহেবের সমস্ত সাহিত্যকর্মের পরেও এই দ্বিতীয় বিয়ে তার জন্য একটি কালিমা হয়েই আছে। শাওন যে শুধুমাত্র হুমায়ুন আহমেদের খ্যাতি অথবা তার অর্থের জন্যেই যে তাকে বিয়ে করেনি তার গ্যারান্টি কি? হুমায়ুন আহমেদ মারা যাওয়ার পরে শাওন হুমায়ুন আহমেদকে নিজের সম্পত্তি মনে করে নিয়েছেন। হুমায়ুন আহমেদ এবং তার সাহিত্যকর্ম সারা বাংলাদেশের, উনি কারো সম্পত্তি নন যে তাকে নিয়ে কিছু করতে হলেই শাওনের অনুমতি নিতেই হবে। তার মেয়ে আছেন এছাড়াও তার অনেক আত্মীয়স্বজনও আছেন। শাওন অবশ্যই হুমায়ুন আহমেদের একমাত্র আত্মীয় নন। হুমায়ুন আহমেদের মৃত্যুর পর তার লাশ নিয়ে আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে আসার সময় উনি ফার্স্ট ক্লাস ছাড়া যাবেন না বলেও গোঁয়ার্তুমি করেছেন এমন কথাও শোনা গিয়েছে। সে যাই হোক, হাজার হোক শাওন হুমায়ুন আহমেদের স্ত্রী কিন্তু তাই বলে একজন মৃত ব্যাক্তিকে নিয়ে ব্যাবসা করাটাও কোন স্ত্রীর পক্ষে শোভা পায়না। এগুলো একজন হুমায়ুন ভক্ত হিসেবে আমার ব্যাক্তিগত মতামত।

এখন আসি বান্টি মীরের কথায়, তিনি কালকে একটি লাইভ ভিডিও করলেন যেখানে শাওন ও তার মাকে নিয়ে যাচ্ছেতাই গালাগালি, তাদেরকে মারার হুমকি এবং অনেক কুরুচিপূর্ণ কথা বললেন। এই ব্যাক্তি বাংলাদেশে ট্রাফিক ব্যাবস্থা নিয়ে কিছু ভিডিও করার পর তার অনেক ভক্ত হয় এবং উনি কিছুদিনেই খুব জনপ্রিয় হয়ে যান। উনি সারাদিন ”আল্লাহু আকবর”, এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কথা বললেও ওনার কাজ কর্মে ইসলামের কিছুই প্রকাশ পায়না। উনি বাংলাদেশে থাকতে আঁখি আলমগীরের সাথে উদ্দাম নৃত্য করেন, মেয়েদের সাথে সেলফি তোলেন, হিন্দি উর্দু প্রেমের গান করেন, ডিস্কোতে নিয়ে নাচ গান করেন আবার একই সাথে সবাইকে ইসলাম ফলো করার অনুরোধ করে থাকেন। যেটা আমার দৃষ্টিতে হিপোক্রিসি। ওনাকে কেউ এই নিয়ে প্রশ্ন করলেই, উনি খেপে যান। আমেরিকার নির্বাচনে হিলারীর জন্য ক্যাম্পেইন করার পরে যখন ট্রাম্প জিতে গেল, উনি সাথে সাথে পল্টি মেরে ট্রাম্পকে ভালবেসে ফেললেন। মুখে ইসলামের কথা বললেও কমেন্ট সেকশনে ওনার গালাগালি চোখে পরার মত। ওনার বিরুদ্ধে কমেন্ট করলেই উনি মুখের ভাষা খারাপ করে ফেলেন। এছাড়াও অনেক অপ্রয়োজনীয় লাইভ ভিডিও যেমন কাপড় ধোয়া, রাস্তায় হাটতে হাটতে চিৎকার চেঁচামেচি করা এই সব করে ওনার ফ্যান ফলোয়িং দিন দিন কমতে থাকে। সবাই ভাবতো এই লোক মানসিক প্রতিবন্ধী তাই তেমন একটা গুরুত্ব দিত না। কিন্তু যখন অতিরিক্ত খ্যাতির আশায় উত্তেজনার বশে শাওন এবং তার মাকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য গালাগালি এবং মারার হুমকি দেন, তখন এটা বোঝাই যায় যে ওনার এই ভিডিও উদ্দেশ্যপূর্ণ এবং কারো ইন্ধনে উনি এই কাজ করেছেন। শাওন ইতিমধ্যে বান্টি মীরের নামে থানায় জিডি করেছেন নিরাপত্তার হুমকির কারনে। এখন বান্টি মীর কিভাবে এই খ্যাতির বিড়ম্বনা সামাল দেন, সেটাই দেখার বিষয়।

আমিও চাই, ”ডুব” মুক্তি পাক। কিন্তু এই মুভিকে কেন্দ্র করে যেই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে তাতে ফারুকী সাহেবের ক্ষতি নয় বরং লাভই হয়েছে। পজিটিভ মার্কেটিং না হোক নেগেটিভ মার্কেটিং বা খারাপ কিসে।

আশা করি এই মুভি আর যাই হোক, আরেকটা ”পিপড়াবিদ্যা” যেন না হয়।

এক প্রবাসীর আত্মকথন

বাংলাদেশের প্রবাসীরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। কেউবা মধ্যপ্রাচ্যে অথবা কেউ ইউরোপ আমেরিকায়। কেউবা জীবন সংগ্রামের যুদ্ধ করছেন অথবা কেউ কেউ পড়াশুনার জন্য প্রবাসে আছেন। আমি নিজেও একজন প্রবাসী। এই প্রবাসীদের নিয়েই নিজের ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বাস্তবতা লিখেই ফেললাম।

প্রবাসীদের জীবন অনেকটা ভারবাহী গাধার মত। না চাইলেও ভার বহন করতেই হয় ইচ্ছা থাকুক অথবা নাই থাকুক। অনেক কষ্টে জমানো টাকা অথবা ধার দেনা করে কিংবা জায়গা জমি বিক্রি করে ভাল ভবিষ্যতের আশায় অনেকেই বিদেশে পাড়ি জমান। বাবা মা আত্মীয় স্বজন আশায় বসে থাকেন কবে সেই ছেলে ডলার পাউন্ড ইনকাম করবে আর দেশে সেই টাকা পাঠাবে। ছেলের পাঠানো সেই টাকায় পাকা দালান উঠবে, প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা পাঠাবে, আর কোন দুঃখ কষ্ট থাকবে না। পাড়া প্রতিবেশীকে বড় মুখ করে বলা যাবে আমার ছেলে অমুক দেশে থাকে, আমার ছেলে এত এত টাকা পাঠায়।

কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। একজন প্রবাসী বিদেশে যাওয়ার সাথে সাথেই সে অনেকগুলি সমস্যার সম্মুখীন হয়। বাসা পাওয়া, চাকরী খোঁজা, নতুন পরিবেশ, নতুন ভাষা, নতুন খাদ্যাভ্যাস, নতুন নিয়ম কানুন। এইসব সমস্যার সাথে খাপ খাওয়াতে অনেক সময় লেগে যায়। অনেকেই এত নতুন কিছুর মধ্যে মানিয়ে নিতে পারেন না। আবার অনেকেই পারেন। যারা পারেন না তারা দেশের ধার দেনার কথা চিন্তা করে, মা বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে মুখ বুজে জোর করে মানিয়ে নেন।

মধ্যপ্রাচ্যে হয়তবা অনেকে চাকরি নিয়েই যায় কিন্তু তাদেরও অনেকেই দালালের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে যায়। চাকরির কথা বলে নিয়ে গেলেও তাদের পাসপোর্ট রেখে দিয়ে তাদেরকে দিয়ে অমানুষিক পরিশ্রম করানো হয় নুন্যতম মজুরী দিয়ে। তারপরেও এই প্রবাসী ভাইয়েরা দিনের পর দিন কষ্ট করে যাচ্ছেন পরিবারের মুখে একটু হাসি ফোটাবার জন্য। তারাই কিন্তু রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে রাখছেন সচল।

প্রবাসীদের সব কাজ নিজেদের করতে হয়। কাপড় ধোয়া থেকে রান্না বান্না পর্যন্ত। সারাদিন কাজ করে বাসায় ফিরে কারো ইচ্ছা করে না এত কিছু করতে। তারপরেও সব করতে হয়। বিদেশে তো মা নেই। যেই ছেলে নিজের হাতে ভাত তুলে খেতো না, সেই ছেলেকে আজ সারাদিন কাজ করে ক্লান্ত অবস্থায় হাত পুড়িয়ে রান্না করতে হয়। যেই ছেলে পাশের দোকানে কিছু কিনতে যেতে চাইতো না তার আজ বাসা থেকে অনেক দূরে গিয়ে কাজ করতে হয়। যেই ছেলে সবসময় ফ্যাশনেবল জীবনযাপন করত তার আজকে নিজের জন্য টাকা খরচ করতে দুইবার ভাবতে হয়। অনেকের ঠিকমত খাবার সময় পর্যন্ত হয়ে ওঠেনা, কিন্তু মা ফোন দিয়ে যখন জিজ্ঞেস করে, ” বাবা, খাইসো?”, চোখের পানি আটকে রেখে বলতে হয় ,” মা, খেয়েছি”। অনেক কষ্ট থাকার পরেও মায়ের সাথে যখন কথা হয়, মাকে বলি ”অনেক ভাল আছি, মা। তোমার ছেলে অনেক ভাল আছে।” ফোন কাটার পরে ফোনের দুই প্রান্তেই দুইটি মানুষ কেঁদে ওঠে। কারন মা ছেলের সব কথা বুঝতে পারে, এই জন্যই তো তিনি মা।

প্রবাসে বেশিরভাগ মানুষ কষ্টে থাকে। এমনও দেখেছি, এক রুমে ৭-৮ জন গাদাগাদি করে থাকে। খাওয়া দাওয়ার কোন হিসাব নেই। কখনো বাইরে থেকে কিছু একটা খেয়ে নিয়েই কাজ থেকে এসে ঘুমিয়ে পড়ে আবার সকালে কাজে চলে যাওয়া। ছুটির দিন গুলিতেও অন্য কোন কাজ করে কিছু অতিরিক্ত টাকা জমানো, যাতে ঈদে ভাই বোনদের জন্য কিছু পাঠানো যায়।  প্রিয়জনকে খুশি রাখতে অবিরাম নিজের সুখকে বিসর্জন দিয়ে যাওয়া।

বিদেশের মাটিতে প্রবাসীদের সমস্যার অন্ত নেই। ভাষা সমস্যা, কাজের সমস্যা, বাসস্থান সমস্যা, ভিসা জটিলতা ইত্যাদি ইত্যাদি। তারপরেও মুখে এক চিলতে হাসি লেগেই থাকে। অনেকেই এমন জায়গায় থাকে যেখানে কোন বাঙ্গালি নেই। কারো সাথে প্রান খুলে বাংলা বলা যায় না। বাংলাদেশী খাবার খেতে মন চাইলেও সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠেনা। বাংলাদেশে পরিবারের সাথে কথা বলে বাংলাদেশের যতটুকু ছোঁয়া পাওয়া যায় তাতেই শান্তি। কেউ কেউ বাংলাদেশী চ্যাটরুম গুলিতে গিয়ে বাংলাদেশী মানুষদের সাথে আড্ডায় মেতে ওঠেন, অথবা কোনদিন সময় করে বাংলাদেশী বন্ধুদের সাথে দেখা করতে যান। কাজ শেষ করে এসে দেশে রেখে আসা স্ত্রীর সাথে পাঁচ মিনিট কথা বলেন। এটুকুতেই তাদের আনন্দ। কেউ দেশ থেকে আসলে আগ্রহভরে দেশের গল্প শোনেন। প্রবাসীরা দেশকে নিয়ে যতটা ভাবেন, দেশের মানুষও এতটা ভাবেন না।

প্রবাসীদের একমাত্র সুখের সময় যখন তারা দেশে যান। পরিবার পরিজনের জন্য কেনাকাটা করতে থাকেন, কার কি লাগবে লিস্ট করেন, দেশে গেলে কি করবেন তার প্ল্যান করেন। হয়তবা সবার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনা, তারপরেও ধার দেনা করে হলেও সবার মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টার কোন কমতি থাকেনা।

এত কিছুর পরেও প্রবাসীরা সবচেয়ে উপেক্ষিত। এয়ারপোর্টে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের হেনস্থা করা হয়। দেশের এম্বাসিতে তাদের সাথে পশুর মত আচরন করা হয়। ছোট কাজ করেন বলে অনেকেই তাদের কাজ নিয়ে হাসাহাসি করে হয়। দেশে টাকা পাঠাতে না পারলে তার সাথে খারাপ আচরন করা হয়। সবার এটাই ধারনা বিদেশে একটি টাকার গাছ আছে, প্রবাসীরা গিয়ে ওই গাছে ঝাঁকি দেন এবং সেই টাকা দেশে পাঠান। কত কষ্ট করে যে প্রবাসে টাকা ইনকাম করতে হয়, দেশের মানুষের সেই ধারনাও নেই। মরুভুমির ৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ১০ ঘণ্টা কাজ করে নুন্যতম মজুরী পান। অনেকেই রেস্টুরেন্টে থালা বাসন ধুয়ে, অথবা ক্লিনারের কাজ করে জীবনযাপন করেন। ছাত্ররা পার্ট টাইম জব করে নিজেরাই চলতে পারেন না, দেশে কি টাকা পাঠাবেন? তারপরেও প্রবাসীদের উপর অভিযোগের শেষ নেই।

প্রবাসীদের সম্মান করুন। প্রবাসীদের কষ্টের টাকায় গড়ে উঠেছে আজকের উন্নত বাংলাদেশ। প্রবাসীরা আছেন বলেই বিদেশে বাংলাদেশের মাথা আজ উঁচু হয়ে আছে। প্রবাসীরা বাংলাদেশের একেক জন জীবনযোদ্ধা, যারা যুদ্ধ করছেন বলে আজ বাংলাদেশের এই শক্ত অবস্থান।

পৃথিবীর সকল প্রবাসীদের আমার শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্যালুট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মুসলিম ব্যান

ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার ৭ মুসলিম দেশের মানুষকে আমেরিকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

চারিদিকে মুসলিমদের চিৎকার, ডোনাল্ড ট্রাম্প রেসিস্ট, নো মুসলিম ব্যান, ট্রাম্প ইসলামোফোব। মুসলিমদের আর্তনাদ দেখে কিছু কথা না লিখলেই নয়।

১) এই নিষেধাজ্ঞা মাত্র ৩ মাসের জন্য। আজীবনের জন্য নয়।

২) এই ৭ দেশের নাগরিকরা আমেরিকায় ভিসার এপ্লাই করলে ভিসা না হওয়ার চান্স ৯৮%। বাকি ২% এর জন্য এত কান্নাকাটি করার কোন মানে আছে বলে মনে করি না। তাও ৩ মাসের জন্য।

৩) বিশ্বের প্রথম পাঁচ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশগুলিকে কিন্তু ব্যান করা হয়নি। ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, ইজিপ্ট। তারপরেও কান্নাকাটি।

৪) এই সাত দেশের মুসলিমরা তেলসমৃদ্ধ প্রতিবেশী মুসলিম দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, আরব আমিরাত, বাহরাইনে ঢুকতেই পারেনা। এই ধনী দেশগুলি এই ৭ দেশের মুসলিমদের কেন ঢুকতে দেয়না সেই প্রশ্ন কি কেউ কোনদিন করেছে। তারা শুধু সৌদি আরবে শুধু হজ করার সুযোগ পায়। কই এই নিয়ে তো কখনো মুসলিমদের কান্নাকাটি দেখলাম না?

৫) এই যুদ্ধবিধ্বস্ত সাত দেশকে আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করায় সাময়িকভাবে আমেরিকায় ইমিগ্রেশন ব্যান করা হয়েছে, মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা থেকে নয়।

৬) বিশ্বের ১৬ টি মুসলিম দেশ শুধুমাত্র ধর্মের কারনে ইজরায়েলের সাথে সকল কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং ইজরায়েলের কোন মানুষ এই ১৬ দেশে কখনই প্রবেশ করতে পারবে না। ইহুদীফোবিয়া কি তখন চোখে পড়ছে না?

৭) অন্য দেশের কথা বাদই দিলাম, সিরিয়ার ২৩% মানুষ আইসিসকে সাপোর্ট করে। যেই দেশগুলিতে ইসলামিক জিহাদী ও টেরোরিস্ট মুসলিম দ্বারা পরিপূর্ণ, আপনি কি কখনই নিজের দেশের নিরাপত্তা হুমকিতে রেখে তাদের নিজের দেশে ঢুকতে দিবেন? ইউরোপ সেই একই ভুল করেছিল, তার ফল তারা হাতেনাতে টের পাচ্ছে।

আসুন আমরা না বুঝেই চিৎকার না করে বাস্তবকে বোঝার চেষ্টা করি।